বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ন
ঢাকা-বরগুনা নৌরুটে ‘এমভি অভিযান-১০’ লঞ্চ ঝালকাঠি সুগন্ধা নদীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইঞ্জিনরুম থেকেই আগুনের সুত্রপাত হয়েছিল বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারনা করছে বলে জানান, লঞ্চ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিনিধিরা।
রোববার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে বরগুনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় একথা বলেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব তোফায়েল ইসলাম।
তোফায়েল ইসলাম আরও বলেন, ঘটনার পরদিনই তদন্ত কমিটির সব সদস্য আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুড়ে যাওয়া এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটি পরিদর্শন করি। এছাড়াও যে স্থানে লঞ্চে আগুন লাগে এবং যেখানে এসে লঞ্চটি পাড়ে থেমে থাকে ওই এলাকায়ও আমরা ঘুরেছি, স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথাও বলেছি তাদের লিখিত বক্তব্য নিয়েছি। ইঞ্জিনরুম থেকেই আগুনের সুত্রপাত হয়েছিল বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারনা করছি।
তোফায়েল আহম্মেদ আরও বলেন, লঞ্চের মাষ্টার প্রশিক্ষিত কি না তাও আমরা খতিয়ে দেখছি এবং নৌযানটিতে কারিগরি কোনো ত্রুটি ছিল কিনা তাও দেখা হবে।
কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে এবং প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে এমন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনও মাঠে কাজ করছি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছি, ছবি তুলছি। আমরা আরও কয়েকদিন মাঠে কাজ করব, তারপর ঢাকায় গিয়ে প্রাপ্ত তথ্য ও সকল বিষয় পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করব।
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরদিনই নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব তোফায়েল ইসলামকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিতে নৌ পুলিশের একজন পুলিশ সুপারসহ সাত জনকে সদস্য করা হয়। এরা ঝালকাঠি ও বরগুনায় মাঠ পর্যায়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বরগুনা সার্কিট হাউসে তদন্ত কমিটির প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকারের সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনা – ০১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু (সভাপতি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি), মোঃ হাবিবুর রহমান – জেলা প্রশাসক বরগুনা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ জালাল উদ্দিন (সার্বিক) বরগুনা, সামিয়া শারমিন – উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরগুনা সদরসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর দিনগত রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী লঞ্চ এমভি অভিযান-১০ এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪১ জনের প্রানহানি ঘটেছে। এদের মধ্যে ৩৭ জনেরই বাড়ি বরগুনায়। এছাড়াও আহত রয়েছে শতাধিক যাত্রী, নিখোঁজও আছেন অনেকে। বরগুনায় নিহতদের ২৫ হাজার টাকা সহয়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।